View Sidebar
মগজ-রেস্তোরাঁ

মগজ-রেস্তোরাঁ

June 28, 2015 6:11 pm

মগজ-রেস্তোরাঁ

অপ্রতিম রাজীব

Brain

 

ক্রিজ

ডিফেন্সিভ স্ট্রোক
ত্বরিত এক রান
লাইফ
বাউন্ডারি
ওভার-বাউন্ডারি
“হাউজ দ্যাট” চিৎকার
উচ্চাকাঙ্ক্ষী দৌড়
ছিন্নভিন্ন স্ট্যাম্প
মিস্টার থার্ড আম্পায়ার
ছক্কার বৃষ্টি
চারের বৃষ্টি
ভেঙে যাবে সকল রেকর্ড
নার্ভাস নাইনটি নাইন
সবুজ বাতি কমলা বাতি লাল বাতি

২০০৪/৫

 

মেন্যু

আকাশের নিরীহ পাখির প্রতি কেন লোভ?
সমুদ্রের মাছের স্বপ্নে
ক্ষুৎপিপাসা কেন বেড়ে যায়?
ধনুক, গুলতি ছেড়ে দাও।
জাল, বড়শির টোপ ছেড়ে দাও।
অনিন্দ্য ময়ূরীকে খাওয়ার বাসনা রুখো।
হিংস্র শেয়ালের দিকে পারলে ট্রিগার টেপো।
ওয়ান – টু – থ্রি –
তিন রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে ভেঙে ফেলো নেকড়ের দেমাগ।
ইলিশ, স্যামন মাছ বাদ দাও।
পারলে কুমির ধরো-
জলে জাল ফেলো।
ভয়ার্ত হরিণের মাংসের প্রতি এতো লোভ কেন?
নির্দোষ নিরীহ জন্তুর ঝোলের প্রতি কেন এতো মোহ?
আজ থেকে খাদ্যরূপে নাও
টাকার নোটের তাড়া, ব্যাংকের চেকবুক, শেয়ার সনদ।
খেয়ে ফেলো সোনা-দানা, জমির দলিল, স্বপ্নিত বাড়ির নকশা, হীরের আংটি।
নির্বাক নিরীহ মোরগটিকে ছেড়ে দাও।
তার বদলে খাও আকাশের নীল বুক, মেঘেদের সাদা ডানা, চাঁদের রূপালী আভা।
উদয়াস্ত ভোগ কর আদিত্যের সোনালী কিরণ।

                                         ২০০৪/৫

 

ও.টি.

যখন তুমি আমার চোখের দিকে তাকাও,
আমার স্বপ্নের সাদা মেঘগুলো কেঁপে ওঠে নীল শীতে।

যখন আমি তোমাকে নিয়ে ভাবি,
ঘোর আবেগে জ্বলে ওঠে
আমার ওষ্ঠের আগ্নেয় পাহাড়।

তোমার হাসির শব্দতরঙ্গে ভেঙে যায়
আমার শীতরাত্রির সরীসৃপ ঘুম;
তোমার গানের আবর্তে টুকরো হয়
ফেনিল গিনিপিগ স্বপ্নের ঢেউ;
তোমার কান্নার শব্দে থেমে যায়
ওরাংওটাং রক্তের স্পন্দন।

এখন আমি আধভাঙা ঘুম, শিহরিত বুক ও বিষাক্ত স্মৃতি নিয়ে
পড়ে আছি সার্জারির প্রতীক্ষায়,
আমার হৃদয়ে রক্তের বিস্ফোরণ;

আমাকে নেবে
তোমার অপারেশান থিয়েটারে?

                                                    ১২.২.২০১৫

 

ইলেক্ট্রনিক প্রেম

তোমার প্রেম আমার মনে একটি প্যান ড্রাইভ।

মনের ডেটাবেজে তুমি এন্ট্রি করেছ নাম,
ওয়ার্ডপ্রসেসারে স্মৃতির ডকুমেন্ট।
তোমার ভাইরাস প্রেম
নষ্ট করে আমার সমস্ত প্রোগ্রাম।
হ্যাংগ্ড হই বার বার
আমি সাইবর্গ।
অসংখ্য নামের বিশৃঙ্খল ইলেক্ট্রিক সিগন্যাল
শর্ট সার্কিট ঘটায় সমস্ত হার্ডওয়ারে।
ব্যর্থতার তড়িৎপ্রবাহ
হাই ভোল্টেজ্ শক্ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।
তখন ইন্স্টল্ড হয় নতুন যন্ত্রাংশ, নতুন সফ্টওয়ার।

তবু
ডুব দিই আমি
ভারচুয়াল বাস্তবের জগতে,
আর সেখানে প্রোগ্রামের খাঁটি ফুল ফোটাই।

২০০৪/৫

 

নারী

Untitled-1                                                             ২০০৪/৫

 

শূন্যস্থান

আমি এক নারীকে ভালবেসেছিলাম, তার নাম (ক)__। আমি একটি নীল মেঘকে ভালবেসেছিলাম, তার নাম (খ)__। আমি একটি বরফের নদীকে ভালবেসেছিলাম, তার নাম (গ) __। আমি একটি স্মৃতিকে ভালবেসেছিলাম, তার নাম (ঘ) __। আমি এক নিঃসীম শূন্যতাকে ভালবেসেছিলাম, তার নাম (ঙ) __।

৬.২.২০১৫

 

রক্তিম ত্রিভুজ

জিপ নিয়ে থেমে আছি A পয়েন্টে – জীবনযুদ্ধের বিশ্বরোডে ট্র্যাফিক সিগন্যালের অপেক্ষায়। একটি থামে ঝুলছে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ বেলুন। স্বপ্ন ডিগ্রি কোণ বরাবর রাস্তার মুখে লাল বাতি জ্বলল, প্রেম ডিগ্রি কোণেরটিতে সবুজ বাতি আর আশা ডিগ্রি কোণেরটিতে নীল বাতি জ্বলল। প্রথমটি বেছে নিলাম। গাড়ি ড্রাইভ করে আবারও ট্র্যাফিক সিগন্যাল – এবার O পয়েন্টে । এবার স্বপ্ন ডিগ্রি কোণে হলুদ বাতি, প্রেম ডিগ্রি কোণে সবুজ বাতি আর আশা ডিগ্রি কোণে নীল বাতি জ্বলল। এবার সবুজ বাতি বেছে নিলাম। এর পরের মোড়ে, মানে X পয়েন্টে কমলা বাতি মেনে আশা ডিগ্রি কোণের পথ নিলাম। ফের A পয়েন্টে, কিন্তু এবার বিকল্প নেই, শুধু লাল বাতি। নীল, সবুজ ও হলুদ বেলুন ফেটে শূন্যে মিলিয়ে গেল। লাল, লাল, লাল। তিন রাস্তা মিলে হল যন্ত্রণার রক্তিম ΔAOX ত্রিভুজ।

২.১.২০১৫

 

ফিল্টার

তার অশ্রু বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ল আমার টেস্টটিউবের ভেতর। সে’ অশ্রু ফিল্টার করে দুঃখ, যন্ত্রণা, হতাশা, সুর ও স্বপ্ন থেকে শুধু স্বপ্নটুকু রাখলাম। তা সূর্যের উত্তাপে বাষ্প হয়ে মেঘ হল, মেঘ হতে বৃষ্টি হল, বৃষ্টির জল নদী হল, নদী সাগরে মিলল, সাগরের জল মেঘ হল, বৃষ্টি হল, সে’ জল ছাঁকনি দিয়ে ছাঁকলাম, এবার দুঃখ থাকল, সে’ দুঃখ মেঘ হল, বৃষ্টি হল, ছেঁকে ছেঁকে ক্রমে যন্ত্রণা থাকল, হতাশা থাকল, সুর থাকল, তাদের প্রত্যেকে মেঘ হল, বৃষ্টি হল – এভাবে নিচের এ চক্র তৈরি হল:

Untitled-2৮.২.২০১৫

 

সাদা-কালো টিভি

রঙীন টিভির দৃশ্যগুলো রঙ হারাতে থাকল। সংবাদ, টক-শো, ফ্যাশান-শো, কার্টুন আর সিরিয়াল নাটকের পাত্র-পাত্রীরা সাদা-কালো পোশাক আর সাজ ধরল। ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখি: আকাশ, মেঘ, সূর্য, পাখি আর ফুল – সব সাদা-কালো রঙে আঁকা। গুহা থেকে একটা সাদা ভূত বেরিয়ে এল আর ঘুঁটঘুঁটে কালো হুঙ্কার ছুঁড়তে লাগল কালো রঙের অট্টহাসি ছড়িয়ে। ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে উঠলাম। আমার ঘর সাদা-কালো, আমার আকাশ সাদা-কালো, আমার মন সাদা-কালো, আমার প্রেম সাদা-কালো, আমার পুরো জগৎ সাদা-কালো। সামনে চলছে ভ্রূক্ষেপহীন সাদা-কালো টিভি………………

১১.২.২০১৫

 

মোবাইল জগৎ

মধ্যরাতে জেগে উঠলাম নীল বুদবুদের ভেতর। দেখি, আমি আর মেঝের উপর নেই; সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছি, আর ঝাড়বাতিগুলো অনবরত নিজেদের ভেতর স্থানবদল করে চলেছে। করিডোরে গেলাম, আস্ত স্কাই-স্ক্রেপার ফ্ল্যাট-বাড়িটি লাটিমের মত চক্কর দিতে লাগল আর একবার শূন্যে, একবার ভূমির সমান্তরালে, একবার ফ্লাইওভারে ও একবার সাবওয়েতে উঠানামা করা শুরু করল। তড়িঘড়ি করে ডানা মেলে শূন্যে উড়াল দিলাম। পুরো গ্রহটা আলোর গতিতে ছুটতে লাগল পালাক্রমে ক্রেইন, বুলডোজার, টয়-ট্রেন ও এম্বুলেন্সে চড়ে, আর অসংখ্য নক্ষত্রকে ওভারটেক করে – ছায়াপথ পেরিয়ে অন্য অনেক মৃত স্বপ্ন ও গ্যালাক্সির ভেতর দিয়ে। এক স্থানে এসে স্বপ্ন ভেঙে আরেক স্বপ্ন দেখতে লাগলাম; এক মিন্ট রঙের মৎস্যকন্যা কপালের তৃতীয় চোখ থেকে গোলাপী, কমলা ও মেরুন রঙের হার্ট-সাইন ছুঁড়তে লাগল একোয়ারিয়ামের রবোকপের দিকে। আমার হৃৎপিন্ডে শুরু হল হলুদ রক্তের বিস্ফোরণ আর হার্ট, লিভার ও লাংগ্স অপেরা সঙ্গীত গাইতে গাইতে নিজেদের মধ্যে স্থানান্তর ঘটাতে মত্ত হল। আমি সর্বত্র, অথচ কোথাও আমি নেই। চারদিকে ডিস্কো মিউজিক।

৪.২.২০১৫

 

ললিপপ-বৃষ্টি

স্ট্রবেরি রঙের সন্ধ্যা। নির্জন বাংলো। টেবিলের ওপর পড়ে আছে লোভনীয় রঙীন সব ললিপপ। গোলাপী, কমলা ও আকাশী এদের রঙ। চুপিসারে চোখ টিপল গোলাপী রঙেরটি। হাতে নিতেই উড়ে এল একটি আগুন-মুখো হলোগ্রাম ড্রাগন। উন্মত্ত ক্রোধে সে ছিল কম্পমান। তাড়াতাড়ি তাকে মাইক্রোওয়েভে রেখে নিলাম আকাশী রঙের ললিপপ। এবার এল গোলাপী, কমলা ও আকাশী রঙের তিনটি সফ্টওয়্যার পরী। তাদের ডানার ডিজিটাল নীলের ছটায় এনালগ চোখ দিশেহারা। এবার নিলাম কমলা ললিপপ। উড়ে এল এক ফ্লোরাইড-মিন্টের নারী। তার হাতে ক্রিস্টালের জাদুদণ্ড, মাথায় পারদের মুকুট। সে ললিপপদের রানী। জাদুর লাঠির ইঙ্গিতে সে নিয়ে এল আকাশী, গোলাপী ও কমলা রঙের কার্টুন জ্যোৎস্না। আকাশে ভাসছে ময়ূরপঙ্খী নৌকা, পক্ষীরাজ ঘোড়া যার মাঝি। আর রঙীন সব মেঘ থেকে লাল, নীল, কমলা, গোলাপী, সবুজ ললিপপের বৃষ্টি। রাত্রি হল ললিপপময়। ললিপপ-বৃষ্টির রাত।

৬.১.২০১৫

 

ক্যান্ডি-স্কেলিং

ব্লু-টুথের ডেন্টিস্ট চেম্বারে গিয়েছিলাম। ঢুকতেই অজস্র ক্যান্ডির সৌরভে মনটা ভরে উঠল। মিল্ক ক্যান্ডি, ম্যাঙ্গো ক্যান্ডি, স্ট্রবেরি ক্যান্ডি, নানা রকমের ক্যান্ডি। প্রথমেই ডাক্তার প্রেসক্রিপশানে লিখলেন – ক্যান্ডি খাবেন নিয়মিত, দাঁত ভাল থাকবে। মুখে বললেন, ‘লেবু খেয়ে আর নিয়মিত ব্রাশ করে দাঁত ক্ষয় হয়ে গেছে, স্কেলিং করতে হবে।’ তারপর হরেক প্রকারের ক্যান্ডি দিয়ে দাঁতগুলো স্কেলিং করলেন। তারপর বললেন, ‘এখন থেকে ক্যান্ডি দিয়ে দাঁত মাজবেন, মনে থাকে যেন।’…….. ভিজিট নেন না তিনি, শুধু প্রচুর ক্যান্ডি কেনার একটি প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর দিতে বলেন। বেরোনোর সময় সহাস্য মুখ নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন ক্যান্ডির সুদৃশ্য একটি প্যাকেট।

২১.২.২০১৫

 

জেব্রা-ক্রসিং

রমনা-পার্কের সামনে জেব্রারা রাস্তা পার হয়। সাদা-কালো, নীল-সবুজ, গোলাপী-হলুদ ও কমলা-আকাশী সহ বহু রঙের জেব্রা। তাদের কারও মুখে চুয়িং গাম, কারও ক্যান্ডি আর কারও পার্ক চকোলেট। কেউ পপ গান গায়, কেউ ক্ল্যাসিকাল, আবার কেউ উচ্চস্বরে স্লোগান আবৃত্তি করে। কেউ পরে ব্লেজার, কেউ সেরোয়ানি, আবার কেউ টি-শার্ট। তাদের জীবনের লক্ষ্যও ভিন্ন। কেউ শিল্পী হতে চায়, কেউ রাজনীতিবিদ, আবার কেউ চায় সচিবালয়ে ঢুকতে। সবাই বেপরোয়া গাড়িকে ভয় পায়, তাই জেব্রা-ক্রসিং হলেও দেখেশুনে রাস্তা পার হয়। রাস্তা পার হওয়ার পর তারা জয়োল্লাসে ভুভুজেলা বাজায়, তারপর পরস্পরকে চুমু খায়। রাত হলে সান-গ্লাস চোখে দিয়ে বেরোয় তারা, তারপর হৈ হৈ করতে করতে রাস্তা পার হয়। জীবন তাদের অযান্ত্রিক ও অমানবিক; মানুষ ও যন্ত্রের জগৎ তাদের কাছে অচেনা। স্কুলের শিশুরা তাদের কাছে রাস্তা পার হওয়া শেখে।

২৪.২.২০১৫

 

পক্ষীমানুষ

আমি একটি কর্পোরেট অফিসের কর্মী। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ডেস্কে বসে কাজ করতে হয়। অফিস-রুমে সারা দিন টেলিফোনে রিং হয়। টেলিফোনের শব্দ ঐকতান সৃষ্টি করে। গান শোনার সময় পাওয়া যায় না, কিন্তু এ ফোন-সঙ্গীতে মন ভরে যায়।
পাখি দেখারও খুব ইচ্ছে ছিল। বইতে যদিও পাখি দেখেছি, একটি রক্তমাংসের প্রতিরূপ দেখার আকাঙ্ক্ষা জেগে ছিল ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা বোতলের মত। একদিন লাঞ্চ-বিরতিতে বের হয়ে দেখি এক লোক মুর্গী হাতে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। মনে পড়ল বইয়ে এমনই দেখেছি। এভাবেই পাখি দেখা হল।
এক রাতের আকাশে পূর্ণ চাঁদ মেঘেদের সাথে জলখেলা খেলছিল। তাই চকোর পাখির মত জেগে থেকে ট্যাবলেটে লিখলাম:

ললিপপ-বৃষ্টি
স্ট্রবেরি রঙের সন্ধ্যা। নির্জন বাংলো। টেবিলের ওপর পড়ে আছে লোভনীয় রঙীন সব ললিপপ। গোলাপী, কমলা ও আকাশী এদের রঙ। চুপিসারে চোখ টিপল গোলাপী রঙেরটি। হাতে নিতেই উড়ে এল একটি আগুন-মুখো হলোগ্রাম ড্রাগন। উন্মত্ত ক্রোধে সে ছিল কম্পমান। তাড়াতাড়ি তাকে মাইক্রোওয়েভে রেখে নিলাম আকাশী রঙের ললিপপ। এবার এল গোলাপী, কমলা ও আকাশী রঙের তিনটি সফ্টওয়্যার পরী। তাদের ডানার ডিজিটাল নীলের ছটায় এনালগ চোখ দিশেহারা। এবার নিলাম কমলা ললিপপ। উড়ে এল এক ফ্লোরাইড-মিন্টের নারী। তার হাতে ক্রিস্টালের জাদুদণ্ড, মাথায় পারদের মুকুট। সে ললিপপদের রানী। জাদুর লাঠির ইঙ্গিতে সে নিয়ে এল আকাশী, গোলাপী ও কমলা রঙের কার্টুন জ্যোৎস্না। আকাশে ভাসছে ময়ূরপঙ্খী নৌকা, পক্ষীরাজ ঘোড়া যার মাঝি। আর রঙীন সব মেঘ থেকে লাল, নীল, কমলা, গোলাপী, সবুজ ললিপপের বৃষ্টি। রাত্রি হল ললিপপময়। ললিপপ-বৃষ্টির রাত।

শেষ রাতে উঁকি দেয়া ঘুম ভাঙল ১১টায়। অফিসে পৌঁছে উপস্থিতির খাতায় দেরির কারণ লিখলাম: ‘ললিপপ-বৃষ্টি’।
অফিসে একটি সংগ্রহশালা আছে, যেখানে মানবশিশু, নারী, পুরুষ, মানবতা ও নৈতিকতার রেপ্লিকা সাজানো আছে। সংগ্রহশালায় ঢুঁ দিয়ে এসব সম্পর্কে ধারণা পাই।
এগিয়ে চলে পক্ষীমানুষের জীবন।

২৪.২.২০১৫

 

ইঁদুর/মাউস-তত্ত্ব

মাউস ক্লিক করে করে ইন্টারনেট ঘেঁটে চলেছি। হঠাৎ মনে পড়ল কে একজন কবি ছিলেন, ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যৃ হয়েছিল। হ্যাঁ, জীবনানন্দ দাশ! সার্চ দিলাম। স্ক্রিণে এল সে’ লোকের পরচর্চা। ঢুকতেই একটি নাম: ‘মহাপৃথিবী’। তার ভেতর একটি শিরোনাম: ‘আট বছর আগের একদিন’। তার কিছু লাইন:

১. বধূ শুয়ে ছিলো পাশে – শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিলো, আশা ছিলো – জ্যোৎস্নায়, -তবু সে দেখিল
কোন ভূত?

২. জীবনের এই স্বাদ – সুপক্ক যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের –
তোমার অসহ্য বোধ হ’ল; –
মর্গে কি হৃদয় জুড়োলো
মর্গে – গুমোটে
থ্যাঁতা ইঁদুরের মতো রক্ত-মাখা ঠোঁটে!

ইঁদুর? সে আবার কী? আবার গুগলে গেলাম। ইঁদুর লিখে এন্টার করতেই স্ক্রিণে এল সচিত্র বিবরণ। ও-হো! ইঁদুর তাহলে মাউসের মত!

২১.১.২০১৫

 

কাঠবিড়ালী বধূ

বসে আছি ফুলশয্যায়, সামনে বসা কাঠবিড়ালী বধূ। তার পরনে সিল্কের লাল শাড়ি, শাড়ির উপরের অংশ দিয়ে ঘোমটা টানা। ঘোমটা ফেললেই কপালে চন্দনের ফোঁটার নকশা। আদর করতে গাল টেপার চেষ্টা করতেই লাফ দিয়ে ধরে ফেলল মাথার উপরের সিলিং ফ্যান, টারজানের মত ‘ও..ও..ও’ চিৎকার দিয়ে লাফ দিয়ে চলে গেল সাজানো ঘরের এক কোণে। তারপর লাফ দিয়ে আরেক কোণে। সেখান থেকে লাফ দিয়ে আরেক কোণে। এভাবে এক কোণ থেকে অন্য কোণে লাফাতে লাগল কাঠবিড়ালী……….
আমার কাঠবিড়ালী বধূ। তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, পাওয়া যায় না। তার মুখের রূপ যেন রক্ত নয়, মাংস নয়, কামনা নয়, নিশীথ দেবদারু দ্বীপ, কোনো দূর নির্জন নীলাভ দ্বীপ।

২১.২.২০১৫

 

পোস্টমডার্ন বেড়াল

মেরুন রঙের আকাশে স্ট্রবেরি রঙের বৃষ্টি। মাংকি ক্যাপ ও ছাতা মাথায় ম্যাঁও বেড়াল আইসক্রিম সিটিতে হাঁটে। বৃষ্টি ঝড়ে পরিণত হলে সে ব্যাঙদের সাথে মিলে ডাংগুলির বিশ্বকাপ খেলে। তারপর পিকআপ ড্রাইভ করে পাবে গিয়ে দুপুরের সূর্যকে পোচ্ করে খায়। ‘ম্যাঁও ম্যাঁও’ আওয়াজ করে মেঘকে ডেকে ডেকে হয়রান বেড়াল বাবল গাম চিবোয়। বাবল গাম ফোলে বেলুন হয়ে আকাশে উঠে। তারপর সে’ বেলুন পশ্চিম দিগন্তের রঙধনুকে লাল কার্ড দেখায় আর জাপটে ধরে নিচে নামতে থাকে। বেড়াল রঙধনুটিকে পাকড়াও করে নেয় আর ধনুকের মত টেনে ধরে চিয়ার্স গার্লের দিকে নীল গোলাপ ছুঁড়ে। ফুলের আঘাতে সে পরীর বুক থেকে বেরুতে থাকে হার্ট-সাইন।

৭.৪.২০১৫

 

সুইফ্ট ও নির্জন দুঃখের স্বর্গ

জীবন-উৎসব শেষে জোনাথন সুইফ্ট স্বর্গে গেল। মানুষের মুখাবয়ব, হাত-পা ও ভেতরাঙ্গ তার কাছে ছিল উৎকট বিতৃষ্ণার উৎস। তাই তাকে তার মনের মতন এক জনমানবহীন স্বর্গে পাঠানো হল। নদী, বন, পাহাড়, ঝর্না, গাছ ও বন্য প্রাণী নিয়ে এক সুরম্য স্বর্গ। সেখানে পশ্চিম আকাশে সব সময় সাতরঙা রামধনু ভেসে থাকে। পাখি, মেঘ আর প্রজাপতিরা উড়ে বেড়ায়। দিগন্তসীমা থেকে স্মৃতি-বিস্মৃতির সুর ভেসে আসে। গোলাপী মেঘের আড়াল থেকে অনিন্দ্যসুন্দর আলোর বৃষ্টি ঝরে। চোখের সামনে নানা রঙের লুকোচুরি খেলা চলে। লেমুর, জিরাফ, জেব্রা ও স্প্রিংবাক সে’ জগতে ঘুরে। ক্ষুরের শব্দ নিয়ে ঘোড়া চক্কর দেয়। শূন্য আকাশে উড়ে যায় সাদা বক।
জনমানবহীন নির্ঝঞ্ঝাট স্বর্গ – সুইফ্টের উপযুক্ত। তবু এখানে কীসের গভীর দুঃখ! – তার কাছে তা অব্যাখ্যেয়। রহস্যে ভরা অপলক বেদনার চোখে সে তাকিয়ে থাকে। বলা যায় না, ছোঁয়া যায় না, ধরা যায় না; নির্জন দুঃখের এ এক মহারণ্য।

২৮.২.২০১৫

 

মগজ-রেস্তোরাঁ

মি: রকস্টোন একজন প্রতিষ্ঠিত কালো ভেড়া। বিনীত পাইফল খেয়ে খেয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি একটি রেস্তোরাঁর মালিক। তিনি স্বপ্ন দেখেন আর তার মগজ স্বপ্নে ভরপুর হয়ে ফানুসের মত আকাশে উড়ে যায়। তিনি তার রেস্তোরাঁয় মগজ দিয়ে নানা পদের খাবার রান্না করেন। তার মগজের যে অংশটিতে খিদের অনুভূতি থাকে, তা দিয়ে তিনি বানান মগজ-চপ। যে অংশে শিক্ষা থাকে, তা দিয়ে রান্না করেন কাবাব। প্রেম থাকা অংশটি দিয়ে প্রস্তুত করেন বার্গার। আর যে অংশটিতে স্বপ্ন, সুর ও ছবি থাকে, তা দিয়ে তৈরি করেন হট-ডগ। সে’ হট-ডগ দারুণ চলে; মূলত এর জন্যেই নীল চোখের লোকজন সেখানে ভিড় জমায়। বিনিময়ে ক্রেতারা তাকে দেয় মনোপলি খেলার নোট। জমজমাট মগজ-রেস্তোরাঁ!

৭.১.২০১৫

 

লেডি ম্যাকবেথের খোয়াবনামা

লেডি ম্যাকবেথের স্বপ্ন সাত সাগর তেরো নদী পেরিয়ে অচিন দেশের স্বপ্নরানী হওয়া। উল বোনার সূঁচ দিয়ে সারাক্ষণ সে নীল নকশা গেঁথে চলে। রাতে চাঁদ উঠলে শেয়ালের পিঠে চড়ে সে চকোর-শিকারে বের হয়। তারপর ম্যাকবেথের সাথে মিলে নিচের গাণিতিক সূত্র তৈরি করে:

ধরি, লেডি ম্যাকবেথ = a
ম্যাকবেথ = b

∴ প্রথম রাতের স্বপ্ন = (a + b)²
= a² + 2ab + c²

এবং অন্তিম রাতের স্বপ্ন = (a + b)² – (2ab + b²)
= a² + 2ab + b² – 2ab – b²
= a²

এ লেডি অবলা নয়, অতিমানবী। সে দেখে চলে সূর্য ও চাঁদকে রোস্ট করে খাওয়ার স্বপ্ন। বাকিদের কাছে যা স্বপ্নের রান-ভাজা খাওয়া।

২১.১.২০১৫

 

শহিদ মিনার

১৯৮২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরাজয় বাম কানে ক্রিম রঙের বেদনা সৃষ্টি করে। তার চেয়ে স্মরণীয় ট্র্যাজিক ঘটনা ১৮৩১ সালে ডিরোজিওর অকালপ্রয়াণ, ফ্রিজে আজও তাজা আছে যে অনির্বাণ ডিজিটাল বাল্ব। ১৯৩৯-৪৫ সালের হলোকস্ট অন্য সব বিয়োগান্তক ঘটনাকে ছাড়িয়ে নাটাইয়ের ঘুড়ি হয়ে ব্ল্যাক হোলে পৌঁছে যায়। তার চেয়ে কম তবু তীব্র মাত্রার ভূকম্পন সৃষ্টি করে (রিখ্টার স্কেলে যার মাত্রা ১০৮৯১০৯৮০) ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড। আর তার পরই শোচনীয়তম ট্র্যাজিক ঘটনা হচ্ছে ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার এভারেস্টপ্রতিম ছেঁকা খাওয়া। ঘটনাগুলোকে ট্র্যাজিক তীব্রতার দিক থেকে যথাক্রমে ৫, ১০, ১৫, ১০ ও ৫ নম্বর দিয়ে নিচের গ্রাফ-বারটি তৈরি করা হল:

Untitled-3

নীল রক্তের এ এক ফ্লুরসেন্ট শহিদ মিনার – জেগে আছে পরানের গহীন সাবওয়েতে।

৯.১.২০১৫

 

গরুর রচনা

গরু একটি স্তন্যদায়ী জন্তু। এর চারটি পা, একটি লেজ ও দু’টি শিং আছে। লেজ দিয়ে গরু মাছি তাড়ায়। শিং দিয়ে আঘাত হানে। গরু ঘাস খায়। খাওয়া শেষ হলে স্মৃতি রোমন্থনের মত করে জাবর কাটে। শাবক হলে দুধ উৎপাদন করে। গরু প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার মতিঝিল আদর্শ গোশালায় খাঁটি গরু কীভাবে হওয়া যায় সে বিষয়ে মানবসন্ততিদের ক্লাস নেয়; ইন্টারনেটে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশে দেশে আদর্শ গরু তৈরির শিক্ষা প্রচার করে; আর খাঁটি মানুষদের কীভাবে শিংয়ের গুঁতো দেয়া যায় তাও নবজাত শাবকদের জানায়।
গরুস্তান জিন্দাবাদ!

১.৩.২০১৫

 

কমোড-পার্লামেন্ট

রামগরুড়ের ছানাদের দেশে এক সংসদ আছে। এমপিরা সবাই কমোডে বসে সংসদ-কার্যক্রমে অংশ নেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সাংসদরা কমোডে প্রস্রাব করেন, আর ‘না’ ভোট দিতে চাইলে মলত্যাগ। কোনো কিছুতে আনন্দিত হলে তারা স্ট্রবেরি সেন্ট স্প্রে করেন, আর বেজার হলে লেমন স্প্রে। ওয়াক-আউট করার মত উপলক্ষ তৈরি হলে তারা একযোগে নিজ নিজ কমোড ফ্লাশ করেন, আর দীর্ঘদিন যোগদান থেকে বিরত থাকতে চাইলে কৃমির রেজালা খান, খুব সুস্বাদু হয় সে’ রেজালা। পূর্ণিমা রাতে প্রকৃতি ডাক দিলেই বোঝা যায় এটা সংসদ অধিবেশনে যাওয়ার সময়। আর যখন এগহস্ট ফ্যান চালু হয়, তখনই অধিবেশনের সমাপ্তি। আমায় ভাসাইলি রে, আমায় ডোবাইলি রে, অকূল দরিয়ার বুঝি কূল নাই রে, কূল নাই, কূল নাই……………………

১৩.২.২০১৫

 

হে হৃদয়, একদিন ছিলে তুমি নদী

আমার দুই প্রেমিকা দীপ্তি ও দৃষ্টির মধ্যে কে আংটির যোগ্যতর প্রার্থী তা নিয়ে রাতের পর রাত ভেবেছি। এভাবে ভাবতে ভাবতে এক রাতে তন্দ্রা এল আর নিচের সূত্রটি নিভু নিভু চোখের আকাশ দখল করে নিল:

রবি = দীপ্তি
এবং নজর = দৃষ্টি

এবং
রবীন্দ্রনাথ = দীপ্তির উদ্দীপ্ত সম্রাট
নজরুল ইসলাম = শান্তির দৃষ্টি

এখন,
দু’জনের জন্মদিনের ব্যবধান = ২৫শে বৈশাখ – ১১ই জ্যৈষ্ঠ = ১৬ দিন
আর মৃত্যুদিনের ব্যবধান = ২২শে শ্রাবণ – ৮ই ভাদ্র = ১৬ দিন
∴ রবির জন্মদিন – নজরুলের জন্মদিন = রবির মৃত্যুদিন – নজরুলের মৃত্যুদিন = ১৬ দিন

∴ দীপ্তি – দৃষ্টি = রবি – নজরুল = ১৬ দিন

∴ দীপ্তি < দৃষ্টি (/১৬ দিনের আলো)

∴ সিদ্ধান্ত :

দীপ্তি, তোমার তপ্ত স্পর্শে আমাকে তৃপ্ত কর।

                                      ১৪.৪.২০১৫

 

চাঁদ-ক্রিকেট

চাঁদ মামাকে নিয়ে সিক্রিকেট স্টেডিয়ামে গেলাম। (কী আর করা, সঙ্গাল তো!) ছবিয়ার খেতে খেতে চাঁদ মামা জ্যোৎস্নাসুক হয়ে ওঠলো আর যত সব অনুরক্তিকর কথা …… । বেজায় খেপে গিয়ে আমি চাঁদ মামাকে দলামচা করে নেমে পড়লাম সিক্রিকেটরিয়ামে। ফুল টস বল। ছঅক্কা হয়ে মামা গিয়ে পড়ল খেলারিতে। সেই থেকে চাঁদ মামা আর সঙ্গালিপনা করে টিপ দিতে আসে না।

১৫.৭.২০১৩

 

রিসাইকেল টাওয়ার / আইফেল বীন

অনেক দিন আগে পিনোচিও চাঁদকে গুমলেট করে ফেলেছিল। সেই পিনোচিও-সমাচার ফটোকপি করে মামাতুয়ার কাছে পাঠিয়েছিলাম। ভিডিও গেমের নীল পাখি তা ফেলল গিলে। আর আমি আজ স্মৃতির ফটোকপি ছিঁড়ে ছিঁড়ে রিসাইকেল বীনে ফেলি। ভেবে ভেবে রাগলামি করে আর কত আইফেল টাওয়ারে চড়ব!

১৫.৭.২০১৩

 

পরিশিষ্ট

মিঃ রকস্টোনের ড্রিংক্স-রুটিন

সময়                           পানীয়
৮:৩০                          পারদের জ্যুস
১১:০০                         পাস্তুরিত প্রেট্রোল
৩:০০                           তরলায়িত প্লাস্টিক
৬:৩০                          পটাশিয়াম সায়ানাইড
১০:০০                         ককটেইল

৫.৩.২০১৫

 

Printed Version:

Spread the love

Leave a reply


error: Content is protected !!